– কিছু ধর্মীয় পণ্ডিতদের মতে, রাগের মাথায় করা শপথ
অস্বীকারের শপথ
এগুলো অকার্যকর ও বাতিল বলে গণ্য হবে। এর প্রমাণ হল হাদিস: “রাগ অবস্থায় করা শপথ অকার্যকর।” (মুসলিম)
– কিন্তু বুখারী ও মুসলিমে বর্ণিত আছে যে, হযরত মুহাম্মদ (সা.) রাগান্বিত অবস্থায় তাঁর স্ত্রীদেরকে বাহন না দেয়ার কসম করেছিলেন, অতঃপর তাদেরকে বাহন দিয়ে কসমের কাফফারা আদায় করেছিলেন।
– এই দুই হাদিস পরস্পরবিরোধী। এদের মধ্যে কোনটি জাল? এই কিতাবুস সিত্তার হাদিসগুলোর মধ্যেও জাল হাদিস আছে, এতে আমার সুন্নতের প্রতি আস্থা কিছুটা নড়ে গেছে। আমি আপনাকে জিজ্ঞেস করতে চাচ্ছিলাম?…
প্রিয় ভাই/বোন,
বর্ণিত আছে যে, আশআরী গোত্রের লোকেরা নবী (সা.)-এর কাছে একটি বাহন চেয়েছিল। রাসূলুল্লাহ
“আল্লাহর কসম, আমি তোমাকে কোন বাহনে চড়াবো না, আমার কাছে তোমাকে চড়ানোর মত কোন বাহন নেই।”
তিনি বললেন। কিন্তু পরে নবীজির কাছে গনিমতের মাল হিসেবে কিছু উট আনা হলো। তখন…
“আশ’আরীরা কোথায়?”
সে জিজ্ঞেস করল। আমরা তার কাছে পৌঁছালে সে আমাদের (উট থেকে) খেজুর দেয়ার নির্দেশ দিল।
আমরা
“হে আল্লাহর রাসূল! আমরা তো আগে আপনার কাছে বাহন চেয়েছিলাম, আপনি তো কসম খেয়ে বলেছিলেন যে, আমাদের বাহন দেবেন না; আপনি কি তা ভুলে গেছেন?”
আমরা বললাম। সে,
“আমি তোমাদেরকে (উট) সওয়ার করাইনি; আল্লাহ তোমাদেরকে সওয়ার করিয়েছেন। নিশ্চয়ই আমি
-আল্লাহর ইচ্ছায়-
“যদি আমি কোন বিষয়ে শপথ করি এবং তার চেয়ে উত্তম কিছু দেখি, তাহলে অবশ্যই আমি সেই উত্তম কাজটি করব এবং আমার শপথের কাফফারা দেব।”
বলেছেন।
(বুখারী, আল-হুমুস, ১৫; মুসলিম, হাদীস নং: ৪৩৫৪)
– হাদিসের
(বুখারী ও মুসলিমের)
এই বর্ণনায় রাসূলুল্লাহ (সা.) এর
“সে রাগান্বিত”
এ বিষয়ে কোন রেকর্ড নেই। তবে বুখারী ও মুসলিমের একটি বর্ণনায় আশআরীরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তাঁর
“যখন সে রাগান্বিত ছিল”
তারা যেভাবে গিয়েছিলেন।
– যতটুকু আমরা দেখতে পাচ্ছি, এই হাদিস বর্ণনায় –
রাগ থাকুক বা না থাকুক
–
“শপথ বাতিল”
এটার সাথে সম্পর্কিত কিছু নেই।
কারণ
শপথ বাতিলকরণ:
মিথ্যা শপথ হল ইচ্ছাকৃতভাবে বা ভুল ধারণার বশবর্তী হয়ে মিথ্যা কথা বলা।
উদাহরণস্বরূপ:
কেউ যদি তার ঋণ পরিশোধ না করেও পরিশোধ করেছে বলে মনে করে,
“আল্লাহর কসম, আমি পরিশোধ করেছি।”
এই বলে শপথ করা এক
“শপথ বাতিল”
এবং সেইজন্য এর জন্য কোন প্রায়শ্চিত্তের প্রয়োজন নেই।
অনুরূপভাবে, অনিচ্ছাকৃতভাবে মুখ থেকে বেরিয়ে যাওয়া শপথ, যা ইচ্ছাকৃতভাবে করা হয়নি, তাও এই ধরনের শপথের মধ্যে পড়ে এবং এর জন্য কোন কাফফারা (প্রায়শ্চিত্ত) নেই।
– হাদিসের ব্যাখ্যায়ও রাগের কারণে এই শপথের কথা উল্লেখ আছে।
শপথ বাতিল
আমরা এই অংশটি সম্পর্কে কোন তথ্য খুঁজে পাইনি।
(দেখুন: নববী, আল-মিনহাজ, ইবনে হাজার, ফাতহুল-বারী, সংশ্লিষ্ট হাদিসের ব্যাখ্যা)
– মুসলিম শরীফে আমরা রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর রাগের কারণে করা কসমের কাফফারা না দেওয়ার কোন তথ্য পাইনি। এর বিপরীতে,
“যে ব্যক্তি কোন কাজে শপথ করে, অতঃপর তার চেয়ে উত্তম কিছু দেখে, সে যেন তার শপথ ভঙ্গ করে, সেই উত্তম কাজটি করে এবং শপথের কাফফারা আদায় করে।”
যার অর্থ
-বিশেষ করে বুখারী ও মুসলিম-
এবিষয়ে অনেকগুলো সহীহ হাদীস বর্ণিত আছে।
– ইসলামী ফিকহ শাস্ত্রের সূত্রসমূহে
“রাগ”
আমরা এমন কোনো তথ্যের সন্ধান পাইনি যেখানে বলা হয়েছে যে, কোনো একটি উপাদানের অনুপস্থিতিতে শপথ বাতিল হয়ে যায় এবং এর কোনো প্রায়শ্চিত্ত নেই।
সালাম ও দোয়ার সহিত…
প্রশ্নোত্তরে ইসলাম