– যদি দুইজনের মধ্যে একজন বলে, “আল্লাহর কসম, আমি এই খাবার খাবো”, আর অন্যজন বলে, “আল্লাহর কসম, আমি এই খাবার খাবো না”, তাহলে এই শপথের বিধান কি হবে?
– হানাফি ও শাফেয়ী মাজহাবের আলোকে যদি আপনি ব্যাখ্যা করতেন তাহলে ভালো হতো। উভয় মাজহাবের ক্ষেত্রেই কি কাফফারা ওয়াজিব হবে, নাকি শুধু একটির ক্ষেত্রে? যদি ওয়াজিব হয়, তাহলে কোন মাজহাবের ক্ষেত্রে?
প্রিয় ভাই/বোন,
– হানাফী মাযহাবের বাইরে, জমহুর/তিন মাযহাবের আলেমদের মতে, কসমের পরিমাপ
এটা হৃদয়ের অভিপ্রায়, উদ্দেশ্য।
অতএব, যদি প্রশ্নে উল্লেখিত শপথটি ইচ্ছাকৃতভাবে এবং জেনেশুনে করা হয়ে থাকে,
“আল্লাহর কসম, তুমি খাবেই” যে বলে, আর “আল্লাহর কসম, আমি খাব না” যে বলে, উভয়েরই কসম ভঙ্গের কাফফারা আদায় করা ওয়াজিব।
এ বিষয়ে চার মাজহাবের ঐক্যমত্য রয়েছে।
– যদি এই শপথগুলো, আসলে শপথের অভিপ্রায় নিয়ে না করা হয়ে থাকে, বরং
একটি ভাষাগত অভ্যাস হিসাবে বিবেচিত
তাহলে, হানাফী মাযহাবের অনুসারীদের জন্য আবার কসমের কাফফারা আদায় করা ওয়াজিব। জমহুর/
মালিকি, শাফিঈ, হাম্বলিদের
সে অনুযায়ী, এখানে কোন প্রায়শ্চিত্তের প্রয়োজন নেই। কারণ এখানে শপথের
সংযোজক / বন্ধনকারী
এর জন্য প্রয়োজনীয় অভিপ্রায় এবং উদ্দেশ্য নেই।
এই ভিন্নধর্মী উপলব্ধি,
“আল্লাহ তোমাদের অনিচ্ছাকৃতভাবে মুখ থেকে বের হয়ে যাওয়া শপথের (লাঘব শপথের) জন্য তোমাদেরকে দায়ী করবেন না।”
(আল-মায়িদাহ, ৫/৮৯)
এর কারণ হল, আয়াতে উল্লেখিত শব্দটির ভিন্ন ভিন্ন ব্যাখ্যা।
– হানাফী মাযহাব অনুসারে,
লাঘব শপথ, যার কোন বিধান নেই এবং কোন প্রায়শ্চিত্তের প্রয়োজন নেই,
এটি এমন একটি শপথ যা অতীত বা বর্তমানের সাথে সম্পর্কিত।
উদাহরণস্বরূপ, একজন ব্যক্তি গতকাল হাসপাতালে গিয়েছিলেন, কিন্তু তিনি মনে করেন যে তিনি যাননি।
“আল্লাহর কসম, আমি কাল হাসপাতালে যাইনি।”
ক্লাসে এটা
“শপথ বাতিল”
এর কোন প্রায়শ্চিত্ত নেই। অথবা, সে দূর থেকে একটি পাখি দেখেছে।
“আল্লাহর কসম, এটা একটা কাক।”
যদি সে শপথ করে এবং পরে দেখা যায় যে সে মিথ্যা বলেছে, তাহলে তাকে শপথের প্রায়শ্চিত্ত করতে হবে না।
কিন্তু,
ভবিষ্যতের জন্য কৃত শপথ,
-ইচ্ছাকৃত হোক বা অনিচ্ছাকৃত-
এটা একটা শপথ বলে গণ্য হবে এবং এর জন্য প্রায়শ্চিত্ত করতে হবে।
সেই অনুযায়ী, প্রশ্নে উল্লিখিত উভয় শপথই
-যেহেতু এটি ভবিষ্যতের সাথে সম্পর্কিত-
প্রায়শ্চিত্ত করা প্রয়োজন।
অবশ্যই, এখানে দুইজনের মধ্যে একজনেরই শপথ ভঙ্গ হবে। কারণ, সে ব্যক্তি হয়তো খাবে, নয়তো খাবে না।
যদি সে নিজে খায়, তাহলে তার শপথ ভঙ্গ হবে, আর যদি সে না খায়, তাহলে তার বন্ধুর শপথ ভঙ্গ হবে, এবং এর জন্য প্রায়শ্চিত্ত করতে হবে।
– মালিকি, শাফি, হাম্বলী মাজহাব অনুযায়ী,
প্রশ্নে উল্লেখিত শপথগুলো, যদি কোন অভিপ্রায় ছাড়াই, শুধুমাত্র একটি ভাষাগত অভ্যাসের কারণে উচ্চারিত হয়ে থাকে, তাহলে এই শপথগুলো প্রকৃত শপথ নয়, বরং অর্থহীন শপথ, এবং এর জন্য কোন কাফফারা (প্রায়শ্চিত্ত) প্রয়োজন নেই।
(তুলনা করুন: ভি. জুহাইলি, আল-ফিকহুল-ইসলামী, ১/১৩৮-১৩৯)
সালাম ও দোয়ার সহিত…
প্রশ্নোত্তরে ইসলাম